Sunday , December 4 2016
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
হোম / সারা বাংলা / ১০ টাকা কেজির চাল থেকে বঞ্চিত হতদরিদ্র মানুষ

১০ টাকা কেজির চাল থেকে বঞ্চিত হতদরিদ্র মানুষ

সারাদেশে হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজির চাল বহু স্থানেই পাচ্ছে না হাজার হাজার হতদরিদ্র মানুষ। বহু স্থানে এই চাল পাচ্ছে বিত্তবান কিংবা সচ্ছল ব্যক্তি ও পরিবার। আর সেখানেই । এমনসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোথাও জনপ্রতিনিধিদের উপর হামলাও হচ্ছে। জেলা প্রশাসনে অভিযোগ পেশ করা হচ্ছে। তা নিয়ে মামলা হচ্ছে, কোথাও ডিলারশিপ বাতিলও হচ্ছে। এই চালের জন্য নির্ধারিত কার্ড নিয়ে দুর্নীতি-অনিয়ম চলছেই। ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে এবং তাদের ডিলারশিপ বাতিল হচ্ছে।

ইউপি সদস্যের নামে মামলা

পাইকগাছায় হতদরিদ্রদের ১০টাকা কেজির চাল বিতরণের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ডিলার ও ইউপি সদস্যের নামে থানায় মামলা করেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। খাদ্য পরিদর্শক মোঃ মনিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বাদী হয়ে সরকারি সম্পদ প্রতারণামূলক ভাবে আত্মসাত্ ও ইউনিয়ন পর্যায়ে হতদরিদ্রদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য বিতরণ নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগে ডিলার খান দেলোয়ার হোসেন ও ৪নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আব্দুল আজিজ বিশ্বাসকে আসামি করে মামলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, খান দেলোয়ার হোসেনের ডিলারশিপ বাতিল ও তার ঘরে থাকা মালামাল জব্দ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাঞ্ছারামপুরে ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে । এ ব্যাপারে ডিলার মোঃ ফারুক মিয়ার বিরুদ্ধে ইউনিয়নের ১৮ জন দুস্থ ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগকারীরা বলেন , চাল পেয়েছি ৩০ কেজি, ডিলার টিপসই নিয়েছে ৬০ কেজির। ডিলার ফারুক মিয়া বলেন, টিপসই নিয়েছে অন্যরা,আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান বলেন, ডিলারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিয়োগ পেয়েছি এবং তদন্ত করার জন্য উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে । অভিযোগ প্রমাণ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাঁথিয়ায় চাল পাচ্ছে না সাড়ে ১৫ হাজার হতদরিদ্র

পাবনার সাঁথিয়ায় এখনো শুরু হয়নি ১০ টাকা দরের চাল বিক্রি। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসার বললেন, তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান, সঠিক তালিকা প্রণয়নের পরেও তা আবার যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরিষদে পাঠিয়েছেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস। এদিকে প্রতিনিয়তই আমাদের নিকট চালের জন্য তালিকাভুক্তরা ভিড় করছে। আমরা তাদের সঠিকভাবে বলতে পারছি না কোন দিন থেকে চাল বিক্রি হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, অতি দ্রুততম সময়ে ১০ টাকার চাল বিতরণ শুরু হবে। বিলম্বের বিষয়ে তিনি জানান, সঠিকভাবে তালিকা যাচাই বাছাইয়ের জন্য সময় লাগছে ।

জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ চেয়ারম্যানের ওপর হামলা

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড নিয়ে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন জানিয়েছেন কলারোয়ার হতদরিদ্র মানুষ। জানা গেছে, জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. রিজাউল বিশ্বাস সবগুলো কার্ডই স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের নাম তালিকাভুক্ত করেন। তার সচ্ছল প্রতিবেশীসহ নিজের মায়ের নামেও কার্ড ইস্যু করেন। যারা টাকা দিতে পারেননি তাঁদের কার্ড দেওয়া হয়নি। ইউনিয়নের উত্তর ক্ষেত্রপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র জাহানারা বেগম, রেকসোনা খাতুন, সমার্তবান বেগম, রওশনারা খাতুন, রুমা খাতুন, নাজমা বেগম, সোনাভান বিবি, সুফিয়া খাতুন, নাসিমা বেগম, হামিদা খাতুন, আবদুল মজিদ, ফতেমা খাতুন জানান, তাদের প্রতিটি কার্ডের জন্য ওয়ার্ড সদস্য রিজাউলকে জনপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। তারপরও তাদেরকে কার্ড দেওয়া হয়নি। তারা টাকা ফেরত না পেয়ে গত বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেছেন।

এবিষয়ে ইউপি সদস্য কোহিনূর বেগম সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘স্বামী টাকা খরচ করে তাকে মেম্বরী পাস করিয়েছে’। মেম্বর না থাকলেও তো তার সাথে ঘর-সংসার করতে হবে। তাই তার কথার বাইরে তার যাওয়ার উপায় নেই। এখন আইনানুযায়ী যা হবার হবে। মহিলা মেম্বরের স্বামী মফেজ শেখ বলেন, প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন আল-মাসুদ বাবু বলেন, কার্ডের বিনিময়ে হতদরিদ্রদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় সদস্য রেজাউল বিশ্বাস ও মহিলা মেম্বর কোহিনূরের স্বামী মফেজ শেখ সম্প্রতি তার উপর হামলা করে। এ ঘটনায় তিনি (চেয়ারম্যান) কলারোয়া থানায় জিডি করেছেন। রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় বলেন, এসব অভিযোগ তদন্তের জন্য শনিবার উপজেলা পরিসংখ্যাণ কর্মকর্তা ও খাদ্য কর্মকর্তাকে জয়নগর ইউনিয়নে পাঠানো হবে।

তালায় বঞ্চিত ১৪১০ পরিবার

ইউপি চেয়ারম্যানের অবহেলার কারণে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের এক হাজার ৪১০ পরিবার ১০ টাকা দরের চাল থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এ ইউনিয়নে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়নি। ২০ আগস্টের মধ্যে দরিদ্র পরিবারের তালিকা তৈরি করে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তালিকা করতে ব্যর্থ হয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান। খলিলনগর ইউনিয়নের তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ঝংকর ঢালী জানান, খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আজিজুর রহমান রাজুকে বার বার তালিকা প্রস্তুত করার কথা বলা হলেও তিনি এখনও জমা দিতে পারেনি। চেয়ারম্যান তালিকা জমা দিতে গড়িমসি করছেন। খলিলনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য বিকাশ মণ্ডল জানান, প্রথমে স্বজনপ্রীতি হওয়ায় পরে প্রকাশ্যে তালিকা করেছি। সেই তালিকা দু-একদিনের মধ্যে জমা দেয়া হবে।

খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আজিজুর রহমান রাজু বলেন, ‘প্রথমে তালিকা করেছিলাম। কিন্তু স্বজনপ্রীতির কারণে উক্ত তালিকা বাতিল করা হয়। পরে প্রকাশ্যে মাইকিং করে আবার তালিকা করা হয়েছে। তবে এখনও উপজেলায় জমা দেয়া হয়নি। দ্রুত জমা দেয়ার চেষ্টা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *