যমিনের বুকে এমন কোন মানুষ নেই যার ঘর্মাক্ত শরীর থেকে দুর্গন্ধ পাওয়া যায় না । কিছু কিছু মানুষ সুগন্ধি ব্যবহার না করলে তাদের আশেপাশেও থাকা যায় না । অথচ আল্লাহর রসূল যখন ঘামতেন তখন তাঁর শরীর দিয়ে মেশক আম্বরের চাইতেও অধিক সুগন্ধ পাওয়া যেত । সুবহান আল্লাহ !
সম্মানিত ও অনুসরণীয় সাহাবাগণ আল্লাহর রসূলকে ঠিকই চিনতে পেরেছিলেন । তাই খলীফাতুল মুসলিমিন, বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম হযরত আলী (রাঃ) বলেন ,
لم ارقبله و لا بعده مثله
অর্থ : আমি নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বে এবং পরে উনার মত আর কাউকে দেখিনি !” (√ তিরমীযি শরীফ – ২য় খন্ড ২০৫ পৃষ্ঠা- হাদীস নম্বার ৩৬৩৭ )
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বলেন ,
والله ياسين مثلك لم يكن
في العالمين وحق من انباك
অর্থ ; আল্লাহ পাকের কসম ! হে ইয়াসিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সারা জাহানে আপনার কোন মেছাল নাই !” (√ কাসীদায়ে নু’মান লি ইমাম আবু হানীফা -৩৭ নং পংক্তি)

সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা বলেন ,
يَا نِسَاء النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاء إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا
অর্থ ; হে নবী পত্নীগণ ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে । (সূরা আহযাব – ৩২)
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নবী পত্নীগণকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন , “হে নবী পত্নীগণ ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও ।” নবী পত্নীগণ যদি অন্য নারীদের মত না হয় , তাহলে স্বয়ং নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিভাবে অন্য পুরুষদের মত হবেন ?

সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন ,
وَلَئِنْ أَطَعْتُمْ بَشَرًا مِثْلَكُمْ إِنَّكُمْ إِذًا لَخَاسِرُونَ
অর্থ: আর যদি তোমরা তোমাদের মতো কোনো বাশার বা মানুষকে অনুসরণ করো তবে অবশ্যই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (সূরা আল-মু’মিনূন-৩৪) অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা নিজেই বলছেন যে, যদি কেউ بَشَرًا مِثْلَكُمْ (তোমাদের মতো মানুষকে) অর্থাৎ আমাদের মতো কোনো মানুষকে অনুসরণ করে তাহলে সে অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
যারা নবীকে ‘আমাদের মতো মানুষ’ বলে থাকে, তাদের ভূল ব্যাখ্যা অনুযায়ী উপরোক্ত আয়াতের ভিত্তিতে নবীজীকে অনুসরণ করা আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে যাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ ! অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেন ,
وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
অর্থ: যারা মহান আল্লাহ পাক এবং তাঁর রসূলের অনুসরণ করে তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে; যে জান্নাতের নিচ দিয়ে নহর প্রবাহিত থাকবে এবং তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। এটা (তাদের) একটা মহা-সফলতা। (সূরা নিসা-১৩)
যদি চিন্তা ফিকির করার শক্তি সামর্থ্য থাকে তাহলে ফিকির করুক তাদের কার মত নবীজী ছিলেন ? জবাবের আশায় রইলাম ।

বুখারি ও মুসলিমে নবী পাক (সাঃ) নিজেই বলে দিয়েছেন ,
عن عبدالله بن عمرو رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم لست كاحد منكم
অর্থ ; হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্নিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন , আমি তোমাদের কারো মত নই ! (√ বুখারী শরীফ- কিতাবুস সিয়াম- ১ম খন্ড ২৬৩ পৃষ্ঠা – হাদীস ১৮৪০ , √ মুসলিম শরীফ ১৫৮৭ , √ আবু দাউদ শরীফ/১৩৭ )
عن ابي سعيد رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم اني لست كهيتكم
অর্থ : হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্নিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন , নিশ্চয়ই আমি ছুরতান বা আকৃতিগত ভাবেও তোমাদের মত নই।” (√ বুখারী ১/২৬৩ , √ ফতহুল বারী ৪/১৬৫)
عن ابي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم ليكم مثلي
অর্থ- হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে আমার অনুরূপ কে রয়েছো ? (√ বুখারী শরীফ ১/২৬৩ , √ ফতহুল বারী ৪/১৬৭)
যারা বলে নূর নবী তাদের মত মানুষ ; তারা উক্ত হাদিসের জবাব দিক । বলুক , তাদের মধ্যে আল্লাহর রসূলের অনুরূপ কে আছে ?