বসার আদব কত প্রকার

আস্সালামু আলাইকুম,,,,,

ভূমিকা: প্রিয় পাঠক, আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দরবারে লাখো কোটি শোকর আদায়ের সহিত নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর অসংখ্য দুরুদ ও সালাম রেখে শুরু করতে যাচ্ছি এসো দ্বীন শিখি নামক ইসলামিক পর্ব। এখন থেকে আপনার পর্ব আকারে বিভিন্ন ইসলামিক মাসলা মাসায়েল, দোয়া দুরুদ ও দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় ইসলামিক বিষয় বস্তু সম্পর্কিত নিয়মিত আপডেট পাবেন ইনশাআল্লাহ। সেই সাথে আপনি ইসলামিক কোন কিছু জানতে নিচের কমেন্ট বক্সে জানান অথবা আপনার ইসলামিক প্রশ্ন, পোস্ট, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় >>> islamic.bd.2019@gmail.com

আজ আমরা এসো দ্বীন শিখি, পর্ব – ০১ ” এই পর্বে জানবো ইসলামে বসার আদব কত প্রকার ও কি কি বা ইসলামী শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী বসার পদ্ধতি বা নিয়ম কত প্রকার কি কি! স্বাভাবিকভাবে ইসলামি শরীয়াহ এর স্বতন্ত্র নিয়ম অনুযায়ী বসার তিনটি সুন্নতি পদ্ধতি রয়েছে। হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনের সব কিছুই অনূস্বরন করা অনূকরন করা মুসলমানদের জন্য অত্যান্ত জরুরি। তো এ পর্বে আমরা জেনে নিব বসার সুন্নত পদ্ধতি কত প্রকার ও কি কি!

বসার আদব / বসার সুন্নত তরিকাঃ

বসার আদব ৩ প্রকার বা বসার সুন্নত ৩ প্রকার

১. দুই হাটু বিছিয়ে বসা।। [ যেভাবে আমরা নামাজে সিজদার মাঝখানে / তাশাহুদের বৈঠকে / নামাজের শেষ বা আখেরি বৈঠকে বসি। ]
২. দুই হাটু উঠিয়ে বসাও সুন্নত। [ উভয় হাটু উঠিয়ে সাধারনত খাওয়ার সময় বসতে হয়। ]
৩. এক হাটু উঠিয়ে বসা সুন্নত। [ এক হাটু উঠিয়ে সাধারনত ফ্লরে বসে লিখার সময় বসা হয়। ]

বসার সুন্নত বা বসার আদব তিন প্রকার ছন্দে ছন্দে মুখস্ত করুনঃ

১. এক হাটু উঠাইয়া লিখার সময়।। ২. দুই হাটু উঠাইয়া খাওয়ার সময়।। ৩. দুই হাটু বিছাইয়া নামাজের সময়।। [ এই তিন প্রকারে বসা সুন্নত। ]

উপসংহারঃ নবীজি পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রত্যেকটি সুন্নত ই মুমিনদের জন্য শেফা স্বরুপ। যা একজন মুমিন কে সম্পূর্নরূপে দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তির ব্যাবস্থা করে। উপরে বর্নিত বসার সুন্নত তরিকা অনুসারে বসা আমাদের জন্য একান্ত জরুরি। বিশেষ করে নামাজে দুই হাটু বিছিয়ে বসা একজন সুস্থ মানুষের জন্য ফরয এবং খাবার সময় দুই হাটু ভেঙ্গে উঠিয়ে বসা শরীর স্বাস্থের জন্য খুবই জরুরি, এতে করে অতিরিক্ত খাবার গ্রহন করা / পেট বড় হয়ে যাওয়া বা পেটে অতিরিক্ত চর্বি বেড়ে যাওয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, তাছাড়া খাবার গ্রহনের সুন্নত তরিকাই হল পেটের তিন ভাগের একভাগ খাবার গ্রহন করা, একভাগ পানি খাওয়া ও একভাগ খালি রাখা যা সুন্নত তরিকায় বসলে খুব সহজেই মানা হয়ে যায়। এবং লিখার আদব আর দীর্ঘ সময় ধরে লিখার জন্য এক উঠিয়ে বসার কোন বিকল্প নেই। এতে টানা দীর্ঘ সময় বসে লিখার পরেও ক্লান্তি কষ্ট অনুভব হবেনা এবং হাতের পেশীতেও ব্যাথা হবে না ইনশাআল্লাহ। এছাড়া প্রয়োজন বসতঃ আরো কিছু নিয়মে বসা জায়েয আছে, যেমন মজলিসে আপনি অহংকারমুক্ত থাকতে পারলে আসন গেরেও বসতে পারেন তবে সুন্নত তরিকায় বসলে যে সওয়াব সেটা পাবেন না। সর্বপোরি সুন্নতেই আছে কল্যান, সুন্নতেই মুক্তি। আল্লাহ পাক রব্বুর আলামীন যেন সর্বদা আমাদেরকে হুজুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুমহান সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করার তাওফীক দান করেন। আমীন।।

প্রিয় ভিজিটর, আপনাদের জন্য আগামী পর্বে থাকছে পাঁচ দিকে ফিরিয়া ইস্তিন্জা করা নিষেধ | এসো দ্বীন শিখি, পর্ব – ০২ ” তারপর তৃতীয় পর্বে থাকছে, কোন কোন জিনিস দ্বারা প্রসাব পায়খানা করার পরে ঢিলা কুলুপ ব্যাবহার করা নিষেধ বা দশ জিনিস দ্বারা ইস্তিন্জা করা নিষেধ | এসো দ্বীন শিখি, পর্ব – ০৩ ” বিস্তারিত সহকারে জানতে পারবেন। আগামী পর্বের পোষ্ট টি পড়ার আমন্ত্রন রইলো।

“এসো দ্বীন শিখি সকল পর্ব লিষ্ট আকারে দেখতে, পড়তে > ক্লিক করুন”