আসসালামু আলাইকুম,,,, 

প্রিয় বন্ধুগণ, আশা করি আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দয়ায় আপনারা ভাল আছেন। 

“এসো দ্বীন শিখি” এর ২য় পর্বে আজ আমরা শিখবো কোন কোন দিকে ফিরিয়া ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক প্রস্রাব / পেশাব / পায়খানা / টয়লেট / বাথরুম / মল মূত্র ত্যাগ করা নিষেধ বা হারাম না জায়েয।

তো চলুন জেনে নেয়া যাক যেসব দিকে ফিরে ইস্তিন্জা করা হাদিস শরীফ অনুযায়ী নিষেধঃ

কিবলার দিকে ফিরে বা পিছনে রেখে ইস্তিন্জা করার বিধানঃ

>> কিবলার / কাবার দিকে পিঠ করিয়া ( পশ্চিম দিকে ফিরিয়া ইস্তিন্জা / প্রস্রাব / পায়খানা / মল মূত্র ত্যাগ সম্পূর্ণ হারাম এবং জেনে শুনে কেউ করলে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে)

>> কিবলার দিকে পিঠ করিয়া বা কাবা শরীফের দিকে পিঠ দিয়ে বসা। (পূর্ব দিকে ফিরিয়া ইস্তিন্জা / প্রস্রাব / পেশাব / পায়খানা / মলমূত্র ত্যাগ করা না জায়েজ হারাম।)

দলীলঃ

(১) আবু হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্নিত হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরাশাদ করেন…..
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ‏‏ إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ بِمَنْزِلَةِ الْوَالِدِ أُعَلِّمُكُمْ، فَإِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الْغَائِطَ، فَلَا يَسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ، وَلَا يَسْتَدْبِرْهَا، وَلَا يَسْتَطِبْ بِيَمِينِهِ

“আমি তোমাদের জন্য পিতৃতুল্য, তোমাদেরকে আমি দ্বীন শিক্ষা দিয়ে থাকি। তোমাদের মধ্যে থেকে যখন কেউ প্রস্রাব / পায়খানায় যাবে সে যেন কখনো কিবলামুখী হয়ে না বসে এবং কিবলার দিকে পিঠ দিয়েও না বসে, আর ডান হাতে শৌচ কার্য করবে না। (মুসলিম,পবিত্রতা অধ্যায়)

(২) আবু আইয়্যুব আনসারী রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহু থেকে বর্নিত হাদীস শরীফে এসেছে, নবীজি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ

]إِذَا أَتَيْتُمُ الْغَائِطَ فَلَا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ وَلَا تَسْتَدْبِرُوهَا بِبَوْلٍ وَلَا غَائِطٍ وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا قَالَ أَبُو أَيُّوبَ فَقَدِمْنَا الشَّامَ فَوَجَدْنَا مَرَاحِيضَ قَدْ بُنِيَتْ قِبَلَ الْقِبْلَةِ فَنَنْحَرِفُ عَنْهَا وَنَسْتَغْفِرُ اللَّهَ[

“তোমরা পেশাব-পায়খানায় গেলে পায়খানার সময় বা প্রস্রাব করার সময় কিবলাকে সামনে রাখবে না এবং পিছনেও রাখবে না। বরং পূর্ব ও পশ্চিম দিক ফিরে বসবে।” আবু আইয়্যুব আনসারী রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহু বলেন, আমরা শাম দেশে গিয়ে দেখি সেখানকার টয়লেট কা’বার দিকে তৈরী করা আছে। আমরা তা ব্যবহার করার সময় বাঁকা হয়ে বসতাম অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতাম।

মদিনাবাসীদের ক্বিবলাহ দক্ষিন দিকে হওয়ায় নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম আজমাইন উনাদের কে জরুরত সারার জন্য ক্বিবলার দিকে মুখ অথবা পিঠ না করে পূর্ব এবং পশ্চিমে মুখ অথবা পিঠ ফিরে পেশাব-পায়খানা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং আমাদের ক্বিবলাহ যেহেতু পশ্চিম দিকে সেহেতু আমাদের কে পেশাব-পায়খানা করার সময় উত্তর ও দক্ষিণে মুখ অথবা পিঠ ফিরে বসতে হবে।

পক্ষান্তরে কিবলার / ক্বাবা শরীফের তা’যীম প্রদর্শন করলে এবং আদব রক্ষা করলে অনেক ফজিলত ও সওয়াব রয়েছে। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে থেকে যে ব্যক্তি প্রস্রাব / পায়খানা / মলত্যাগ করার সময় পবিত্র কাবা শরীফ কে সামনে রেখে / ক্বাবার দিকে ফিরে অথবা ক্বাবা শরীফ কে পেছন রেখে / কিবলার দিকে পিঠ করে যেন না বসে, তার জন্য এর দরুন আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে বান্দার আমল নামায় একটি নেকী লিপিবদ্ধ করা হয় এবং তার আমলনামা থেকে একটি গোনাহ মোচন করিয়া দেয়া হয়।’’

৩. চন্দ্র ও সূর্যের দিকে মুখ করিয়া। ( চাঁদ এবং সূর্যের দিকে ফিরে ইস্তিন্জা / প্রস্রাব / পেশাব / পায়খানা / মলমূত্র ত্যাগ করা হারাম নাজায়েজ, ভুলে ও কখনো এমন কাজ করতে যাবেন না, এতে করে আপনার শরীরে মারাত্মক রোগ ব্যাধির সৃষ্টি হতে পারে এবং আপনার যৌন শক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।)

৪. প্রবল বাতাসের দিকে মুখ করিয়া। ( আমাদের দেশে সাধারণত শীতকালে উত্তর দিক থেকে এবং গরম কালে দক্ষিণ দিক থেকে প্রচন্ড বাতাস প্রবাহ হয়, বাতাস টা যেই দিক থেকে ই আসুক না কেন, যদি আপনি বাতাসের দিকে ফিরিয়া ইস্তিন্জা করতে বসেন তাহলে আপনার নাপাকি আপনার গায়ে এসে আপনার কাপড় চোপড় শরীর নাপাক অপবিত্র ময়লা দূরগন্ধ যুক্ত হয়ে যাবে।)

৫. একেবারে উলঙ্গ হইয়া।