“কিয়ামত দিবস সম্পর্কিত ধারাবাহিক আলোচনার প্রথম পর্ব”

” বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম “
কিয়ামতের দিবসের অবস্থা, কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থা, কেয়ামতের অালোচনা, কি হবে কিয়ামতের দিনে, কিয়ামতের দিন মানুষ যেভাবে উঠবে, কিয়ামতের দিন মানুষের যা হবে

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীনের জন্য, আমরা উনারই গুনকীর্তন করিতেছি এবং উনারই কাছে সাহায্য চাহিতেছি এবং একমাত্র উনারই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছি। এবং আমরা আমাদের প্রবৃত্তির কুচক্র হইতে বাচিবার জন্য আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দরবারে সাহায্য ভিক্ষা করিতেছি। আল্লাহ রব্বুল আলামীন যাকে দয়া করে হেদায়েত করেন তাহাকে কেহই পথভ্রষ্ট গোমরাহ করিতে পারে না, পক্ষান্তরে বান্দা নিজ ইচ্ছায় গোমরাহ হইবার জন্য দৃঢ় হইবার পর (নিজ ইচ্ছায় কু-পথে পরিচালিত হওয়ার জন্য প্রতিঙ্গা করে ফেলার পর যখন সে পথে নিজেকে পরিচালিত করতে থাকে) আল্লাহ রব্বুল আলামীন যদি তাহার জন্য গোমরাহী নির্ধারণ করেন তবে তাহাকে আর কেহই হেদায়েত করিতে পারে না। এ সম্পর্কে আল্লাহ রব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন…. ” অতএব আল্লাহ রব্বুল আলামীন যাকে সৎপথ দেখাতে চান, তিনি তার বক্ষদেশকে (হৃদয় কে)  ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন আর যাকে বিপথগামী করতে চান তার বক্ষদেশকে অতিশয় সংকীর্ণ করে দেন। এমনভাবে সংকীর্ণ করেন যে, যেন সে আকাশে আহরণ করছে। এমনিভাবেই যারা ঈমান আনয়ণ করে না, আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাদের ওপর দুনিয়ার অকল্যান আর পরকালের শাস্তা চাপিয়ে দেন’….. সূরা আল আন’আম – আয়াত নং ১২৫ “
সুতারং আমরা সাক্ষ্য দিতেছি যে, মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন ছাড়া আমাদের আর কোন ইলাহ নেই এবং হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ রব্বুল আলামীনের প্রেরিত বান্দা সর্বপ্রথম এবং সর্বশেষ নবী ও রসূল। আল্লাহ তায়ালা উনাকে দয়া এবং মায়া করে কিয়ামতের পূর্বে সত্য (ইসলাম) সহকারে সুসংবাদদাতা এবং ভীতি প্রদর্শক করিয়া পাঠাইয়াছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ রব্বুল আলামীন এবং হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুগত করিল সে জ্ঞানীর কাজ করিল, আর যে ব্যক্তি অনুগত করিল না’ নাফরমানী করিল সে বোকামী করিল তথা নিজের জন্য ধ্বংস ডাকিয়া আনিল।
হে আল্লাহর বান্দাগন এবং নবীজির উম্মতগন! আল্লাহ আপনাদের কে ভাগ্যবান করুন। আজ আপনারা দুনিয়ার সুখ-শান্তিতে আছেন আবার আগামীকল্য কিয়ামতের দিকে যাত্রা করিবেন। কিয়ামতের জন্য নেক আমল সংগ্রহ করিয়া লউন, কেননা ঐ দিনের ধন-দৌলত, পুত্র পরিজন কোন উপকারে আসিবেনা। ✪ নূর নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ‘ কেয়ামতে সূর্য মানুষের মাথার মাত্র এক সূরমা-শলাই অর্থাৎ ৩ ইঞ্চি পরিমান উপরে রাখা হইবে, তখন মানুষ নিজ নিজ কর্মানুসারে ঘর্মের (শরীরের ঘাম) মধ্যে অবস্থান করিবে, কাহারও পায়ের গাইট পর্যন্ত, কাহারও হাঁটু পর্যন্ত, কাহারও কটিদেশ পর্যন্ত, আর কাহারও মুখের চোয়াল পর্যন্ত ঘামের মধ্যে ডুবিয়া যাইবে।(মুসলিম)
✪ নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ইরশাদ করেন যে’ কেয়ামতে মানুষকে নগ্নপদ ও খৎনা বিহীন  অবস্থায় উঠান হইবে। আম্মাজান হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, – আমি বলিলাম — ইয়া রসূলাল্লাহ ! নর নারী সকলকেই কি এই অবস্থায় উঠান হইবে? তখন তারা কি একে অপরের দিকে তাকাইবেনা? নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর করিলেন _ হে আয়েশা! মানুষ তখন নিজ নিজ চিন্তায় এমনভাবে মগ্ন থাকিবে, যে একে অপরের দিকে তাকাইবার সময় পাইবে না।(বুখারী শরীফ)
✪ হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন ‘ সেই দিন জাহান্নামকে টানিয়া কিয়ামতের ময়দানে আনয়ন করা হইবে – জাহান্নামের ৭০ হাজার শিকল থাকিবে, তাহার প্রত্যেক শিকলে ৭০ হাজার করিয়া ফেরেশতা থাকিয়া উহা টানিয়া আনিবে। (মুসলিম শরীফ)
✪ আম্মাজান হযরত আয়েশা (রাঃ) একদিন দোযখের কথা স্বরন করিয়া কাঁদিয়া উঠিলে ‘  নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করিলেন, ” তুমি কাঁদিতেছ কেন?” আম্মাজান হযরত আয়েশা (রাঃ) উত্তর করিলেন — দোযখের কথা স্বরন করিয়া কাঁদিতেছি। আপনারা কি আপনাদের পরিবারবর্গের কথা কেয়ামতের দিন স্বরন রাখিবেন? নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাব দিলেন — তিনটি স্থানে কেহ কাহারও কথা স্বরন রাখিবে না। * তুলাদন্ডের নিকট, সেখানে প্রত্যেকেই নিজের নেকের ওজন বেশী হয় না কম হয় সেই দিকেই খেয়াল করিয়া থাকিবে। * আর যখন আমলনামা দিয়া বলা হইবে যে, ওহে! তোমার আমলনামা  পাঠ কর। তখন প্রত্যেকেই চিন্তায় থাকিবে যে, তাহার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে না কি পিছন হইতে বাম হাতে দেয়া হবে, * আর পুলছিরাতের নিকটে — যখন উহা জাহান্নামেের দুই পার্শ্বের উপরে বসান হইবে। (আবু দাউদ শরীফ)

✪ মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে সূরা বনী ইসর’ঈলে ইরশাদ করেন…..


( ১৩ ) প্রত্যেক মানুষের ভালমন্দ কাজের নিদর্শন আমি তার গলায় ঝুলিয়ে রেখেছি এবং কিয়ামতের দিন তার জন্য বের করবো একটি লিখন, যাকে সে খোলা কিতাবের আকারে পাবে৷


( ১৪ ) পড়ো, নিজের আমলনামা, আজ নিজের হিসেব করার জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট৷


( ১৫ ) যে ব্যক্তিই সৎপথ অবলম্বন করে, তার সৎপথ অবলম্বন তার নিজের জন্যই কল্যাণকর হয়৷ আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়, তার পথভ্রষ্টতার ধ্বংসকারিতা তার ওপরই বর্তায়৷ কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না৷ আর আমি (হক ও বাতিলের পার্থক্য বুঝাবার জন্য) একজন পয়গম্বর না পাঠিয়ে দেয়া পর্যন্ত কাউকে আযাব দেই না৷


✪ মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে সূরা ত্ব-হা শরীফে ইরশাদ করেন…..


( ১২৪ ) এবং যে ব্যক্তি আমার জিকির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তাহার জন্য কষ্টময় জীবন নির্ধারিত হইয়াছে। এবং আমি তাহাকে কেয়ামতের দিবসে অন্ধ করিয়া উঠাইব।


( ১২৫ ) সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা আমাকে কেন অন্ধ করিয়া উঠাইলেন? আমি তো চক্ষুমান ছিলাম।


( ১২৬ ) আল্লাহ বলবেনঃ এমনিভাবে তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে আজ তোমাকে ভোলা হইয়াছে।


( ১২৭ ) এমনিভাবে আমি তাকে প্রতিফল দেব, যে সীমালঙ্ঘন করে এবং পালনকর্তার কথায় বিশ্বাস স্থাপন না করে। তার পরকালের শাস্তি কঠোরতর এবং অনেক স্থায়ী।


হে আল্লাহ রব্বুল আলামীন! আপনি আমাদিগকে কিয়ামতের বিপদে আপদে সাহায্য করুন এবং আমাদের জন্য হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শাফায়াত লিখিয়া দিন – তিনিই শাফায়াতকারী। আল্লাহুম্মা আমীন।



================================================================================================================================================



“Bismillahir Rahmanir Rahim”

All praise is due to Allah Almighty, we sing praises to him and seek help from him and we are praying only for him. And we are praying for help in the court of Allah Almighty to save us from the evil of our desires. No one can mislead whom Allah Almighty guides, and on the contrary, when the person becomes determined to go astray after his own intention (after being defeated by his own intention, to keep himself guided by the way), Allah Almighty If someone sets a mistake for him, then no one can guide him. In this regard, Allah Almighty says in the Holy Qur’an … “Therefore, whom Allah Almighty wants to show, he enlarges his chest (heart) for Islam, and makes the chest of the person who wants to stray into it very narrow, in such a way narrow It is as if he is getting into the sky, and so is the one who does not believe, Allah Almighty, the punishment of the world and the punishment of the Hereafter. Lays’ ….. Surah Al-Anaam – Ayat No. 125 “